BLL Faculty Participation at the International Conference 'ASPAC 2026' (USA)
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে ইউল্যাব বাংলা বিভাগের শিক্ষকদের গবেষণা ও প্যানেল পরিচালনা: বিশ্বমঞ্চে বাংলার প্রান্তিক জীবনের জ্ঞানতাত্ত্বিক আখ্যান
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, নর্থরিজ (CSUN) কর্তৃক আয়োজিত আন্তর্জাতিক একাডেমিক কনফারেন্স ‘ASPAC 2026’ (Asian Studies on the Pacific Coast)-এ অত্যন্ত সফলতার সাথে অংশগ্রহণ করেছেন ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ULAB)-এর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের চারজন শিক্ষক। ২৪-২৬ জুন অনুষ্ঠিত এই মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক কনফারেন্সে তারা একটি বিশেষায়িত প্যানেলের মাধ্যমে ব-দ্বীপ অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আত্মপরিচয়, বিপন্ন ভাষা এবং ঐতিহ্যবাহী লোকশিল্পীদের অস্তিত্বের লড়াইয়ের তাত্ত্বিক আখ্যান বিশ্বদরবারে তুলে ধরেন।
কনফারেন্সের ৬০তম এই বার্ষিক আসরের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “Rethinking Asia: Crisis, Resilience, and Collective Futures”। এই প্রতিপাদ্যের আলোকে ইউল্যাব বাংলা বিভাগের প্যানেলটির শিরোনাম ছিল: “Epistemologies of Resilience: Interrogating Indigenous Identity, Linguistic Precarity, and Comparative Perspectives in South Asia (Perspectives from the Bengal Delta)” এই আন্তর্জাতিক একাডেমিক সেশনটির সম্পূর্ণ পরিকল্পনা, নকশা এবং প্যানেল চেয়ার হিসেবে সফলতার সাথে সেশনটি পরিচালনা করেন চলচ্চিত্র নির্মাতা, আদিবাসী গবেষক এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক
লাবনী আক্তার।
সেশনে ইউল্যাব বাংলা বিভাগের চারজন শিক্ষকের উপস্থাপিত তাত্ত্বিক গবেষণাপত্রের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
১. লাবনী আক্তার (সিনিয়র লেকচারার): “Decolonizing the Gaze: Visual Epistemology and 'Fourth Cinema' as a Site of Indigenous Resilience in the Bengal Delta”
গবেষণার সারসংক্ষেপ: পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী চলচ্চিত্র আন্দোলনের নান্দনিক ও রাজনৈতিক দিক নিয়ে এই গবেষণাটি আবর্তিত হয়েছে। এতে দেখানো হয়েছে কীভাবে পাহাড়ের প্রান্তিক নির্মাতারা রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত আধিপত্যশীল ও বহিরাগত দৃষ্টিভঙ্গিকে চ্যালেঞ্জ করে নিজস্ব ক্যামেরা ও ভিজ্যুয়াল ভাষার মাধ্যমে স্বকীয় আত্মপরিচয় ও প্রতিরোধের বয়ান বা ‘ভিজ্যুয়াল সভারেন্টি’ প্রতিষ্ঠা করছেন।
২. সাদিয়া আফরিন (সিনিয়র লেকচারার): "Linguistic Precarity and Resilience in the Bengal Delta: Language, Memory, and Indigenous Futures"
গবেষণার সারসংক্ষেপ: গবেষণাটিতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান দুটি আদিবাসী ভাষা—চাকমা ও মারমার ভাষাগত বিপন্নতা ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। আদিবাসী ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং পরিবেশগত জ্ঞান ও ঐতিহাসিক স্মৃতির ভাণ্ডার—এই সত্যকে তুলে ধরে ভাষা সংরক্ষণ ও ডিজিটাল আর্কাইভের গুরুত্বকে এখানে তাত্ত্বিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
৩. শিরিন আক্তার (সিনিয়র লেকচারার): “Epistemologies of Survival: Interrogating the Identity and Crisis of a Marginalized Craft Community - The Jewellery Artisans of Global South (Bhakurta, Savar)”
গবেষণার সারসংক্ষেপ: এই গবেষণাপত্রটি ঢাকার সাভারের ভাকুর্তা অঞ্চলের (গহনাবাড়ী) তামা, পিতল ও অনুকরণশীল গহনা তৈরি করা কারিগরদের প্রায় তিনশত বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য ও বর্তমান অস্তিত্বের সংকট নিয়ে কাজ করেছে। দ্রুত নগরায়ন, অসম বাজারব্যবস্থা এবং প্রান্তিক শ্রমের অবমূল্যায়নের বিপরীতে কারিগররা কীভাবে তাদের বংশানুক্রমিক ও প্রায়োগিক জ্ঞান দিয়ে টিকে আছেন, তা এই গবেষণায় উঠে এসেছে।
৪. সুমিয়া আক্তারী উর্মি (লেকচারার): “Mediated and Immediate Indigeneity: Rethinking Temporalities of Indigenous Resistance in South Asian Narratives”
গবেষণার সারসংক্ষেপ: বাংলা সাহিত্যের দুই কালজয়ী লেখক শওকত ওসমানের ‘কপিলদাস মুর্মুর শেষ কাজ’ এবং মহাশ্বেতা দেবীর ‘দ্রৌপদী’ ছোটগল্পের তুলনামূলক সাহিত্যিক বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে সাঁওতাল আদিবাসীদের প্রতিরোধের ভিন্ন ভিন্ন তাত্ত্বিক দিক ও বয়ানকে এখানে বিনির্মাণ করা হয়েছে।
আদিবাসী চলচ্চিত্র থেকে শুরু করে লোকায়ত গহনা কারিগরদের জীবনসংগ্রাম—ইউল্যাব বাংলা বিভাগের শিক্ষকদের এই তাত্ত্বিক উপস্থাপনাসমূহ কনফারেন্সের আন্তর্জাতিক দর্শক-শ্রোতা ও প্যানেল আলোচকদের সামনে উঠে এসেছে। ডিকলোনিয়াল নান্দনিকতা, সাবঅল্টার্ন স্টাডিজ এবং গ্লোবাল সাউথের জ্ঞানতাত্ত্বিক ধারণাকে বৈশ্বিক একাডেমিক পরিসরে এক নতুন পরিসর তৈরি করতে সমর্থ হয়েছে প্যানেলটি।
ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ULAB)-এর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ আমাদের শিক্ষকদের এই বৈশ্বিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত এবং তাদের ভবিষ্যৎ একাডেমিক ও সৃজনশীল গবেষণার প্রতি নিরন্তর শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছে।